মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন

বিনা টেন্ডারে ৫০ লাখ টাকার ব্রীজ টাকা উত্তোলন হলেও শুরু হয়নি কাজ

বিনা টেন্ডারে ৫০ লাখ টাকার ব্রীজ টাকা উত্তোলন হলেও শুরু হয়নি কাজ

বিনা টেন্ডারে ৫০ লাখ টাকার ব্রীজ টাকা উত্তোলন হলেও শুরু হয়নি কাজ

মোর্শেদ মারুফ: নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় টেন্ডার ছাড়াই ৫০ লাখ টাকার একটি ব্রীজের কাজ ঠিকাদারদের দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও বরাদ্দের সম্পূর্ণ অর্থ উত্তোলন করা হলেও এখনো শুরু হয় নি ব্রীজের কাজ। ফলে ব্রীজ নির্মাণ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী।

উপজেলা প্রকৌশল অফিসসূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রোয়াইলবাড়ী ইউনিয়নের তাঁতীপাড়া নামক স্থানে নতুন ব্রীজ নির্মাণের জন্য এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য অসিম কুমার উকিল মন্ত্রণালয় থেকে ৫০ লক্ষ টাকার বরাদ্দ আনেন। এটি গত অর্থবছরের মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন করার কথা ছিল। গত ৩০ জুন ২০২২-২৩ অর্থবছর চলে যাওয়ায় বরাদ্দকৃত সমুদয় অর্থ উত্তোলন করে উপজেলার কর্তাব্যক্তিদের ফান্ডে রাখা হয়েছে।

এরপর কোনো পত্রিকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে একটি ব্রীজ নির্মাণের জন্য ৫টি কোটেশন তৈরি করে আরএফকিউ পদ্ধতিতে ৫টি প্যাকেজের মাধ্যমে একজন বিএনপির ঠিকাদারসহ ৫জন ঠিকাদারকে কাজ দেয়া হয়।

এরই জের ধরে সম্প্রতি কেন্দুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক আপেল মাহমুদ কেন্দুয়া এলজিইডি এর উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে গিয়ে তাঁতীপাড়া ব্রীজের টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং কাজের বিষয়ে জানতে চান। তার প্রশ্নে উপজেলা প্রকৌশলী বিব্রত যথার্থ কোনো উত্তর দেননি, যা আপেল মাহমুদের ফেইসবুকে লাইভে দেয়া ভিডিওটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে কেন্দুয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মোজাম্মেল হোসেনের মোবাইলে বার বার রিং দিলেও তিনি ধরেন নি।

বিষয়টি নিয়ে এলজিইজি ময়মনসিংহ বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী অণিল চন্দ্র বর্মনের সাথে যোগযোগ করলে তিনি জানান, কেন্দুয়া উপজেলা প্রকৌশলী তো আমার ফোনও ধরেন না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জানান, চলতি বছরে ২৮ মে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা খাত থেকে কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের অনুকূলে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ৩০ জুনের পূর্বেই টাকা উত্তোলন করে উপজেলা পরিষদে রাখা হয়েছে।

পরবর্তীতে ৫০ লক্ষ টাকার কালভার্ট বাস্তবায়নে ৫টি প্যাকেজে আরএফকিউ পদ্ধতিতে ৫ জন ঠিকাদারকে কাজ দেয়া হয়েছে। বর্ষার জন্যে কাজ শুরু হয়নি। শুকনো হলেই কাজ শুরু হবে বলে তাকে জানানো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ময়মনসিংহের একজন প্রকৌশলী জানান, একটি ব্রীজ বা কালভার্টের কাজ বাস্তবায়নে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। সাব-স্টাকচার বা মাটির নীচের কাজ যা মূলত ব্রীজের পাইলিং এর কাজকে বোঝানো হয় এবং সুপার-স্টাকচার বাচা চোখে দেখা যাওয়া কাজ। ব্রীজ বা কালভার্টের সংযোগ সড়ক বা এপ্রোচ রোডকে অনেক সময় আলাদা কাজ হিসেবে দেখানো হয়। সারসংক্ষেপ হলো- ১টি ব্রীজের বা কালভার্টের কাজকে সর্বোচ্চ দুই ভাগে ভাগ করা উচিত। ব্রীজের স্টাকচারাল কাজটি একজন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের করাই উত্তম।

প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ার সর্বোত্তম পদ্ধতি হচ্ছে ই-জিপি যা বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা ২০১৩ সাল হতে সারা দেশব্যাপী চালু করেন। এর ফলে টেন্ডার সংক্রান্ত পেশীশক্তির ব্যবহার বন্ধ হয়েছে। ই-জিপিতে এলটিএম বা ওটিএম পদ্ধতিতে ক্রয় করাকে সরকার উৎসাহিত করেন। এমতাবস্থায় একটি ৫০ লক্ষ টাকার কালভার্টকে ভেঙে ৫টি প্যাকেজে আরএফকিউ করা কোন ভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |